বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় অবস্থিত। এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয় ১৮২১ সালে নির্মিত পুরনো কালেক্টরেট ভবনটি সংস্কারের মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে; ১৯৭৯ সালে গণপূর্ত বিভাগ এটিকে ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করে এবং ১৯৮৪ সালে পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ভবনটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০৫ সালে ভবনটির দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং একই বছর এটি সংস্কার করে বিভাগীয় জাদুঘরে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। সংস্কার কার্যক্রম ২০০৭ সালে শেষ হয় এবং ২০১৫ সালের ৮ জুন তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। এরপর এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় মোট নয়টি গ্যালারি রয়েছে, যেখানে বরিশাল বিভাগের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকজ শিল্পকলা এবং বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ ও ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক নিদর্শন সংগ্রহ করে এসব গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে পুরনো কালেক্টরেট ভবনের ইতিহাস, স্থাপত্যরীতি এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
দর্শনার্থীরা গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এবং শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন।
প্রবেশমূল্য হিসেবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও দেশীয় দর্শনার্থীদের জন্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ফি ৫০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের দর্শনার্থীদের জন্য ২০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। নিরাপত্তার জন্য জাদুঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
ফজলুল হক এভিনিউ, বরিশাল
সকাল ১০টা - সন্ধ্যা ৬টা
শীতকালে সকাল ৯টা - বিকাল ৫টা
১০ টাকা
৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ফ্রি
দিনের বেলা
লোড হচ্ছে...
রিভিউ লোড হচ্ছে...