গাজীপুর জেলা
প্রাচীন ভাওয়ালের গজারি বন থেকে শিল্পনগরী, গাজীপুরের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ, ভাওয়াল রাজবাড়ি ও বিশ্ব ইজতেমা।
জেলা পরিচিতি
গাজীপুর জেলা প্রাচীন ভাওয়াল অঞ্চল নামে পরিচিত, যার ইতিহাস আড়াই হাজার বছর আগে মোগল সম্রাট অশোকের শাসনামল পর্যন্ত বিস্তৃত। মোঘল আমলে এটি 'দশকাহনিয়া বাজু' নামে পরিচিত ছিল। স্থানীয় বীর গাজীদের নামানুসারে বা তুঘলক আমলের কুস্তিগীর 'গাজী' থেকে এই জনপদের নাম 'গাজীপুর' হয়েছে। ভাওয়ালের জমিদার জয়দেব নারায়ণ রায়চৌধুরী চিলাই নদীর তীরে নিজ নামে জয়দেবপুর প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ জেলা সদর। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ ঢাকা জেলা থেকে পৃথক হয়ে গাজীপুর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে গাজীপুরের ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবময়। ১৯৭১ সালে এখানেই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। জয়দেবপুর রাজবাড়ির পুকুরপাড়, সাতখামাইর, টঙ্গী শহিদ স্মৃতি স্কুল প্রাঙ্গণ ও গাছা বধ্যভূমি এখনো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে। দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য 'জাগ্রত চৌরঙ্গী' স্থাপিত হয়েছে জয়দেবপুর চৌরাস্তায়।
বর্তমান গাজীপুর বাংলাদেশের শিল্পরাজধানী। এখানে অবস্থিত টঙ্গী-গাজীপুর শিল্পবelt, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), সমরাস্ত্র কারখানা, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি ও ডিজেল প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান। এটি দেশের একটি প্রধান শিক্ষাকেন্দ্রও—এখানে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), এবং কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআরআরআই, বারী)। টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা গাজীপুরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি দিয়েছে।
পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে ভাওয়ালের গড় (গজারি কাঠের জন্য বিখ্যাত), জয়দেবপুর রাজবাড়ি (বর্তমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়), বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার জন্মস্থান, এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি অন্যতম।
জেলা প্রশাসন
জেলা প্রশাসক (ডিসি)
মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া
পুলিশ সুপার (এসপি)
মোঃ শরিফ উদ্দীন
সিভিল সার্জন
ডা: মোঃ মামুনুর রহমান