শহুরে উদ্যান • ঢাকা
ভ্রমণের সেরা সময়
সকাল বেলা
প্রবেশ
বিনামূল্যে
রেটিং
⭐ 4.0
ঢাকার একদম প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রমনা পার্ক ৬৮.৫ একর জুড়ে বিস্তৃত এক সবুজ ক্যানভাস, যাকে অনেকে স্নেহের করে "শহরের ফুসফুস" বলে থাকেন। মুঘল আমলের ইতিহাস ধারণ করা এই পার্কটির বর্তমান রূপ পেয়েছিল ১৯০৮ সালে, ব্রিটিশ শাসনামলে। এটি শহরের ব্যস্ততা আর কোলাহল থেকে দূরে এক নীরবতা খুঁজে পাওয়ার জায়গা। পার্কের মাঝখানে রয়েছে একটি শান্ত হ্রদ, আর চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা শত শত প্রজাতির গাছপালা আর বিশাল বটগাছ, বিশেষ করে ঐতিহাসিক রমনা বটমূল। এটি শুধু হাঁটার জায়গা নয়, বরং ঢাকার সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখের ভোরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়।
রমনা পার্কে যাওয়া খুবই সহজ, কারণ এটি শহরের প্রধান সড়কগুলোর সাথে চমৎকারভাবে যুক্ত। আপনি শাহবাগ বা কাকরাইল থেকে সহজেই একটি সিএনজি বা উবার-পাঠাও করে চলে আসতে পারেন। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মেট্রো; শাহবাগ স্টেশনে নেমে পড়লেই পার্কের মূল ফটক থেকে মিনিটখানেকের হাঁটা পথ। পার্কের ভিতরে ঢুকে আপনি স্থানীয়দের সাথে মিশে পাকা পথে হাঁটতে পারেন, অথবা হ্রদে প্যাডেল বোট চড়ে জল কাটানোর আনন্দ নিতে পারেন। বসন্তে যখন ক্রাইস্টমাস ফুলে গাছগুলো লাল হয়ে ওঠে, তখন ফটোগ্রাফারদের জন্যও এটি এক আদর্শ জায়গা। পার্কে বেড়ানোর পর আশেপাশের আরও কিছু জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তো রাস্তার ওপারেই। এছাড়া হাঁটা দূরত্বের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস আর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। একটা ছোট্ট টিপস: সপ্তাহের দিনগুলোতে সকালের দিকে পার্ক সবচেয়ে ফাঁকা আর শান্ত থাকে। ছুটির দিনে পরিবারের ভিড়ে এটি অন্যরকম সাজে সেজে ওঠে। আর ঢাকার যেকোনো পাবলিক প্লেসে বেড়ানোর সময় শালীন পোশাক পরাটাই ভালো অভ্যাস।
রমনা পার্কে ঘুরতে আসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিটের দরকার হয় না, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনার শুধু যাতায়াত আর হালকা খাবারের জন্য কিছু খরচ হতে পারে। আপনি যেখান থেকে আসছেন, তার ওপর ভিত্তি করে বাস, সিএনজি বা রাইডশেয়ারে ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে। পার্কের গেটের বাইরে ছোট ছোট দোকান আছে, সেখান থেকে পানি, চিপস বা মুড়ি-মাখা কিনে খেতে পারেন, ২০ থেকে ১০০ টাকাতেই সেটা হয়ে যাবে। আর যদি হ্রদে নৌকা ভ্রমণের ইচ্ছে হয়, তার জন্যও খরচ খুবই নামমাত্র, জনপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকার মতো।
ঢাকার মৃদু শীতকাল, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত, রমনা পার্ক উপভোগ করার সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময়ে আবহাওয়া শুষ্ক ও আরামদায়ক থাকে, যা বাইরে ঘুরতে ও হাঁটার জন্য আদর্শ। সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে পার্কের পরিবেশটা থাকে অন্য রকমের সতেজ আর শান্ত, যখন জগার ও হাঁটতে আসা মানুষে ভরে ওঠে পথ। এই সময়ের আলো ফটোগ্রাফির জন্যও দারুণ। আবার বিকেল ৩:৩০টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টা পরিবার-পরিজন নিয়ে আসার জন্য উপযুক্ত, আর সূর্যের শেষ আলো হ্রদের জলে পড়ে এক অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করে। তবে রমনা পার্কের সবচেয়ে স্মরণীয় সময় হল পহেলা বৈশাখের ভোর, যখন হাজার হাজার মানুষ রমনা বটমূলে জড়িয়ে পড়ে পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার গানে।